Al Quran Learning BD

কুরআন হলো মুসলিম জীবনের সম্পূর্ণ দিকনির্দেশনা। একজন শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই কুরআনের সাথে পরিচিত হয়, তখন তার চরিত্র, আচরণ, নীতি, মূল্যবোধ এবং ঈমানী জীবন শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়ায়। শৈশবে শেখা বিষয়গুলি মানুষের মনে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়। এ কারণেই ছোট বয়স থেকে কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

 

১. শিশুদের হৃদয় কোমল ও গ্রহণক্ষম

শিশুরা খুব দ্রুত শেখে এবং যা শেখে তা দীর্ঘদিন মনে রাখে। ছোটবেলায়—

  • অক্ষর

  • শব্দ

  • তিলাওয়াত

  • তাজবিদ
    এগুলো খুব সহজেই আয়ত্ত করতে পারে।

২. নৈতিক চরিত্র গঠনে কুরআনের ভূমিকা

কুরআনের শিক্ষা শিশুদের—

  • সত্যবাদী

  • ধৈর্যশীল

  • দয়ালু

  • বিনয়ী

  • পরহেজগার
    হতে সাহায্য করে।

 

৩. মানসিক ও জ্ঞানীয় বিকাশে সহায়ক

গবেষণায় দেখা গেছে, কুরআন তিলাওয়াত—

  • মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করে

  • স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

  • মনোযোগ বৃদ্ধি করে

  • আত্মবিশ্বাস বাড়ায়

 

৪. ইমানি ও আধ্যাত্মিক ভিত্তি দৃঢ় হয়

শৈশব থেকে কুরআন শেখার মাধ্যমে—

  • আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা

  • রাসূল ﷺ–এর প্রতি ভালবাসা

  • ইমানি চেতনা

  • দোয়ার গুরুত্ব

  • নামাজের প্রতি অনুরাগ

 

৫. পরিবারের আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় থাকে

একটি পরিবারে শিশু যদি কুরআন শিখে, সাধারণত—

  • বাবা-মা

  • ভাই-বোন
    এদের মধ্যেও কুরআনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।
    পরিবারে নৈতিকতা, শান্তি ও আধ্যাত্মিকতা বৃদ্ধি পায়।

৬. তিলাওয়াত ও উচ্চারণ শুদ্ধ হয়

শিশুর জিহ্বা স্বাভাবিকভাবে নমনীয়, তাই—

  • মাখরাজ

  • সঠিক উচ্চারণ

  • তাজবিদ
    এসব খুব সহজেই শিখে ফেলে।

৭. ছোট সূরা ও দোয়া মুখস্থ করা সহজ হয়

শিশুরা ছোট বয়সে অত্যন্ত দ্রুত মুখস্থ করতে পারে।
সূরা ফাতিহা, ইখলাস, ফালাক, নাস এবং বিভিন্ন দোয়া তারা অল্প সময়েই শিখে নেয়, যা নামাজসহ জীবনের বিভিন্ন কাজে প্রয়োজন।

শিশু যদি শৈশব থেকেই কুরআনের আলোয় বেড়ে ওঠে, তাহলে সে শুধু একজন ভালো পাঠক নয়—ভালো মানুষ, ভালো মুসলিম এবং সমাজের জন্য একটি সম্পদ হয়ে ওঠে।
সুতরাং বাবা-মায়ের উচিত শিশুদের শুরু থেকেই কুরআন শিক্ষার পথ সহজ করা, তাদের উৎসাহিত করা এবং আল্লাহর বাণীর সাথে অভ্যস্ত করে তোলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *